
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ এবং এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে। ভারত এসব ঘটনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারত কাজ করে যেতে চায়।
এদিকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। শ্রমিকদের প্রধান দাবি, বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করছেন।
ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনের কারণে পোশাক কারখানার উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শত শত কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৬৭০টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি ও চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১ নভেম্বর সরকার পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন পুরোপুরি থামেনি।
শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক চাপের বিষয়গুলো সামনে আনা হচ্ছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল জানান, এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনই আনুষ্ঠানিক কাঠামো।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, রপ্তানি আদেশ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণের ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি সমাধান করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ ব্রিফিং, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, রয়টার্স ও পিটিআই।
www.realkhabor.com রিয়েল খবর | সত্য প্রকাশে নির্ভীক আমরা