
সমাজের প্রচলিত নানা বাধা ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশার স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিয়েছেন নরসিংদীর রায়পুরার আছমা। বোরকা ও নেকাব পরেই প্রতিদিন অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামেন তিনি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পথচলার পেছনে রয়েছে দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়।
জীবন সব সময় মানুষের জন্য সহজ পথ তৈরি করে দেয় না। কখনো কখনো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। আছমার জীবনসংগ্রামও যেন সেই বাস্তবতারই এক প্রতিচ্ছবি। দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার তাগিদে তিনি বেছে নিয়েছেন অটোরিকশা চালানোর মতো পরিশ্রমসাধ্য পেশা।
বোরকা-নেকাব পরিহিত অবস্থায় অটোরিকশার স্টিয়ারিংয়ে বসে যাত্রী নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। রাস্তায় নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিশতে হয় তাঁকে। তবে জীবিকার প্রয়োজনে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখেন না আছমা। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো এবং নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা।
আছমার এই জীবনযুদ্ধ শুধু একজন নারীর জীবিকার সংগ্রাম নয়, বরং এটি আত্মনির্ভরশীলতা, সাহস ও মাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সমাজে নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও আছমার মতো নারীরা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন, ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্ববোধ থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
দুই সন্তানকে ঘিরেই তাঁর স্বপ্ন, তাঁদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। প্রতিদিনের ঘামঝরা পরিশ্রমের মধ্যেই তিনি খুঁজে ফেরেন সেই স্বপ্নপূরণের পথ।
রায়পুরার আছমার এই সংগ্রামী পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের কাছে হার না মেনে দায়িত্ব ও স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত সাহসিকতা। তাঁর মতো পরিশ্রমী নারীদের প্রতি সমাজের সম্মান, সহযোগিতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাড়ুক এমনটাই প্রত্যাশা।