
ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামাতে ইসলামী আধিপত্যবাদী ভারতের সাথে লিয়াঁজো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য ভারতকে তোষণ করতো। এখন জামায়াত ভারতকে আওয়ামী লীগের মতো শোষণ করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। যে কারণে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে গোপনে বৈঠক করছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত সেই আওয়ামী লীগের পথে হাটছে। এভাবে তারা ভারতকে তোষণ করার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তারা বৈঠক করছে। এটি আসলে বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। জামায়াত যদি মনে করে এ ধরনের বৈঠক হয়নি, তাহলে তারা আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুক।
বিরোধী দলের ঢাকা থেকে শুরু হওয়া খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন,
জামায়াত বলছে, তারা এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না, অথচ গোপালগঞ্জে কোন পথসভা জনসভা তারা করবেন না। আওয়ামী লীগকে ভয় পেয়ে তারা গোপালগঞ্জে কোন পথসভা করবেন না, এটি তো আসলে হতে পারে না। তাদের যদি নৈতিকতা থাকে, আমি জামায়াত ইসলামকে বলবো, আপনারা গোপালগঞ্জে একটি পথসভা করুন। গোপালগঞ্জে পথসভা করে আপনারা আপনাদের নৈতিকতার পরীক্ষা টা দিয়ে দিন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের গোপনে বৈঠক হয়েছে দাবি করে রাশেদ খাঁন বলেন, এমন তথ্য আমার কাছে রয়েছে। এ ধরনের তথ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও রয়েছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কাছেও রয়েছে। তবে অনেকে বিভিন্ন কারণে বিষয়গুলো হয়তো প্রকাশ করতে পারছেন না। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। আমি তাদেরকে সবকিছু বলেছি।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনারা সারাদিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, আবার রাতে ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, এটা কি আসলে আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতি? এটা কখনোই আধিপত্য বা বিরোধী রাজনীতি হতে পারে না।
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের জান্নাতের টিকিট বিক্রি আর কাজ করছে না। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জনগণকে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্ত করেছিল। এবং তারা বিভ্রান্ত করতে সফল হয়েছিল। কিন্তু ঠাকুরগাঁও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এটা বোঝা গেল, মানুষ এখন জামায়াতের জান্নাতের টিকিটের বিষয়ে সচেতন হয়েছে। ঠাকুরগাঁও এলাকার মানুষ জামায়াতের বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টাকে লাল কার্ড দেখিয়েছে।
এর আগে ঝিনাইদহ ফোন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন রাশেদ খাঁন। নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লী ও জনসাধারণের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, ইবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।