
দীর্ঘস্থায়ী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও খুলে গেল।
তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না ভুচিচ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আগাম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS)-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। দলটি সরকার গঠন করতে পারলে ভুচিচ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
ভুচিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ফেরার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

ভুচিচের পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী আনা ব্রনাবিক ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন। সার্বিয়ার আইন অনুযায়ী, ভুচিচের পদত্যাগের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ভুচিচ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সার্বিয়ায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের বড় সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর। ওই দিন দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি, সরকারি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পেছনে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ভূমিকা রয়েছে এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভুচিচ ও তাঁর সহযোগীরা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের SNS ও তাদের মিত্রদের পাশাপাশি ‘Students Win’ নামে ছাত্র-সমর্থিত আন্দোলনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আন্দোলনটির সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও যুক্ত হয়েছে।
‘Students Win’-এর প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের তদন্ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে অধিকতর স্বচ্ছতার দাবি রয়েছে।
সার্বিয়ার সংসদ ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত হয়েছে। ভুচিচের পদত্যাগের ফলে দেশটিতে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
ফলে আগামী কয়েক মাস সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। একদিকে ছাত্র-সমর্থিত আন্দোলন ও বিরোধী দলগুলো সংসদে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা ভুচিচ প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামছেন। নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে পরবর্তী সরকার গঠনের চিত্র।