
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক পরিবারের গর্বিত সন্তান আব্দুল লতিফ মিয়া। তার বাবা ছিলেন অত্র এলাকার অঢেল সম্পত্তির মালিক।
পারিবারিক ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে তিনি নিজ এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেছেন।
শৈশব থেকেই পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা আব্দুল লতিফ মিয়া জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। তাঁর আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে জানা যায়।
হরিণাকুণ্ডুর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার মনোভাব তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আব্দুল লতিফ মিয়া পারিবারিক সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর মতো ব্যক্তিদের ইতিবাচক ভূমিকা স্থানীয় সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হরিণাকুণ্ডুর মানুষ আশা করেন, আব্দুল লতিফ মিয়া ভবিষ্যতেও তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে মানুষের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন।
চাইলে তাঁর পেশা, পারিবারিক পরিচয়, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও এলাকার মানুষের বক্তব্য যোগ করে এটিকে আরও বড় ফিচার নিউজের মতো করে দিতে পারি।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর ইতিহাসে যে কয়েকজন মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ৬নং হরিণাকুণ্ডু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া। তিনি ছিলেন শুধু একজন চেয়ারম্যান নন, ছিলেন পুরো হরিণাকুণ্ডুর অভিভাবক।
সুনামের সাথে ৪৫/৪৬ বছর আগে তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সাথে এই ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আমি ওনার কাছে বহুবার কাজ নিয়ে গেছি, কখনো খালি হাতে ফেরাননি। খুবই রুচিসম্পন্ন জীবনযাপন করে গেছেন তিনি।
হরিণাকুণ্ডু নামকরণের রূপকার
আশির দশকে যখন হরিণাকুণ্ডু ছিল হন্যকুড়ো নামে পরিচিত, তখন লতিফ সাহেব নিজ বাড়িতে হরিণ পালতেন। সেই হরিণ দেখার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের আগমন ঘটতো। তাঁর এই শখ থেকেই “লতিফ মিয়া” থেকে তিনি হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় “লতিফ সাহেব”। কথিত আছে, তিনিই হন্যকুড়ো থেকে “হরিণাকুণ্ডু” নামে রূপান্তরিত করার অন্যতম কারিগর।
একটা সময় হরিণাকুণ্ডুর পরিচয় ছিল লতিফ সাহেবের নামে। হরিণাকুণ্ডুর কোনো মানুষ বাইরে গেলে নাম জিজ্ঞেস করলে গর্ব করে বলতো “লতিফ সাহেব আমার চাচা হয়।”
এবং কেউ বলতো লতিফ সাহেব আমার ভাই হয়। তখন হরিণাকুণ্ডু বৈঠাপাড়া, বলরামপুরের নামেই পরিচিত ছিল।
সমাজে ন্যায়-নিষ্ঠা এবং সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন এই চেয়ারম্যান। তাঁর মতো সৎ, নির্লোভ ও জনদরদী জনপ্রতিনিধি বর্তমান সময়ে বিরল। হরিণাকুণ্ডুবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে এই মহান মানুষটিকে।
আব্দুল লতিফ মিয়ার কন্যা লোটাস খাতুন বলেন, “আমার বাবা আমাদের পরিবারের জন্য শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি আমাদের কাছে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল ও পরোপকারী হিসেবে দেখে আসছি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখেও তিনি আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন।
বাবার কাছ থেকেই আমরা সততা, ন্যায়-নীতি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা পেয়েছি। তাঁর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। একজন বাবা হিসেবে তিনি যেমন স্নেহশীল, তেমনি একজন মানুষ হিসেবে অত্যন্ত মানবিক। তাঁর মতো একজন মানুষকে বাবা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের ছিল। আব্দুল লতিফ মিয়া এক ছেলে ও পাঁচ কন্যা সন্তান রেখে যান।বর্তমানে তার উত্তরসূরী হিসেবে পাঁচ কন্যা সন্তানই বেঁচে আছেন।