
খালের পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি; পরিদর্শনের আশ্বাস ইউপি সচিবের
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১২ নম্বর নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের শেখরা গ্রামের খালের ওপরের ক্যানাল ও ব্রিজের সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খালের পানির স্রোত ও বৃষ্টির পানিতে পাড়ের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত ও খাত। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের সংযোগস্থলের দুই পাশে খালের পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির স্রোতে মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও পাড় প্রায় খাড়া হয়ে গেছে। চলাচলের পথের কিছু অংশও ভেঙে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে হচ্ছে।
ভাঙনস্থলের পাশেই রয়েছে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। খুঁটির আশপাশের মাটিও ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে ভাঙন আরও বাড়লে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি হেলে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে খালের পানির গতিপথ কিছুটা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। এতে পানির সরাসরি চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের মতে, এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শেখ বলেন, “জায়গাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খালের পাড় যেভাবে ভেঙে যাচ্ছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আজিজ মন্ডল বলেন, “এ পথে প্রায় ৫০টি পরিবারের মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি মাঠের ফসল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভাঙনের কারণে এখন এই পথটি আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন দ্রুত বন্ধ করা না গেলে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্ষা ও বৃষ্টির সময় পানির চাপ বাড়লে ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিদর্শনের আশ্বাস ইউপি সচিবের
এ বিষয়ে ১২ নম্বর নিত্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ইমরান হোসেন জানান, তিনি কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগামী রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ নির্ণয় এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্রিজের সংযোগ সড়ক ও খালের পাড় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে। এতে একপর্যায়ে ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।