শিরোনাম :
বাঘারপাড়ায় নদীর তীর ঘিরে চলাচলে সংকট, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি থেকে শ্যামলী সূত্রধরকে অব্যাহতি। সারা দেশের মত আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজার দশমী সিলেটে ও সম্পন্ন। শ্রীমঙ্গলে শান্তিপূর্ণভাবে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ বেলাবোতে বিএনপির সভাপতি লাল মিয়ার ৮টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে, আসাদুজ্জামান ইউপি নির্বাচনে মুনাফেকি করলে দলে তাদের কোনো জায়গা হবে না: আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ বাড়িঘর ও দোকান ভাংচুরের অভিযোগ

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞান (অ্যানেস্থেসিয়া) চিকিৎসক নেই , বন্ধ সকল ধরনের অপারেশন: চরম ভোগান্তিতে রোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রিয়েল খবর | হরিণাকুন্ডু
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭৪ সময়-দৃশ্য

 

 

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত আট মাস ধরে অজ্ঞান (অ্যানেস্থেসিয়া) চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি ও সাধারণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ফলে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারের দরজায় ঝুলছে তালা। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। তুলার গজ, কাঁচি, অপারেশন থিয়েটারের লাইট, স্ট্রেচার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে জমেছে ধুলা-ময়লা।

হাসপাতালের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খন্ডকালীন (অ্যানেস্থেসিয়া) কনসালটেন্ট দিয়ে সার্জারি ও সিজারিয়ান অপারেশন চালু রাখা হয়। এরপর ওই কনসালটেন্ট তাঁর নিজের কর্মস্থলে ফিরে যায়। বন্ধ হয়ে পড়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব রকমের সার্জিক্যাল অপারেশন। ফলের চরম বিপাকে পড়ে অসহায় গরীব দুস্থ রোগীর পরিবার।

হরিণাকুন্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে কোনো (অ্যানেস্থেসিয়া) কনসালটেন্ট না থাকলে সার্জিক্যাল অপারেশন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার চিঠিপত্র পাঠিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালটিতে সব ধরনের সার্জারি অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সার্জন থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে দুর্ঘটনাজনিত আহত রোগী, ফোঁড়া, হার্নিয়া ও অন্যান্য ছোট-বড় অস্ত্রোপচারের রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, উপজেলা পর্যায়ে অপারেশনের সুবিধা না থাকায় দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীর শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ নিয়োগ পেলে পুনরায় অপারেশন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

পোলতাডাঙ্গা গ্রামের গ্রামের আসমা খাতুন এক নারী জানান, হাসপাতালে বেশ কিছুদিন আগেও সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এখন আর হচ্ছে না। ফলে অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে আমাদের মতন গরিব ও অসচ্ছল রোগী চরম বিপদে।

ভবানীপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন জানান, এই হাসপাতালে নিয়মিত অপারেশন হতো । কিন্তু এখানে অপারেশন করা হচ্ছে না। বর্তমানে নাকি অবশ করার ডাক্তার নেই, তাই অপারেশন বন্ধ। আমাদের মতো গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে কম খরচে হার্নিয়া সহ অন্যান্য অপারেশন করতে পারছিনা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন জানান, (অ্যানেস্থেসিয়া) কনসালট্যান্ট না থাকলে সার্জারিক্যাল অপারেশন করার তো সুযোগ নেই। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে, শুধু (অ্যানেস্থেসিয়া) কনসালটেন্ট না থাকায় অপারেশন বন্ধ হয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি দ্রুত (অ্যানেস্থেসিয়া) চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে অপারেশন সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন অপারেশন বন্ধ থাকা স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে ব্যাহত করছে।

 

Halal Soap ,H.S.S. Road, Jhenaidah

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যটাগরির আরও খবর
© All rights reserved ©2026 realkhabor.com