
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় এলপিজি (গ্যাস) সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। কোথাও সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের খালি বোতল নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের পাশাপাশি হোটেল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।
বেলাবোতে বসুন্ধরা গ্যাসের ডিলার মো. জুয়েল বলেন, তাদের মাসিক চাহিদা ছিল প্রায় এক হাজার সিলিন্ডার। এর বিপরীতে আগে ৯০০টির মতো পাওয়া গেলেও চলতি মাসে সরবরাহ পাননি। ফলে ক্রেতারা সিলিন্ডার নিয়ে এসে ফেরত যাচ্ছেন।
মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রফিক মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠান ছয়টি কোম্পানির গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন করে। এগুলো হলো ইউনিগ্যাস, ফ্রেশ গ্যাস, আই গ্যাস, যমুনা গ্যাস, নাভানা গ্যাস ও বিএম গ্যাস। মাসে তার চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার সিলিন্ডার হলেও চলতি মাসে পেয়েছেন মাত্র ৪৭৫টি। এত কম সরবরাহে সামনে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বারৈচা বাজারের ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে তিনি গ্যাস পাচ্ছেন না। তাই বিক্রিও বন্ধ রেখেছেন। তবে পাশের একটি দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস পাওয়া গেলেও সেগুলো ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দোকানির দাবি, সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। আগে ডিলাররা দোকানে সিলিন্ডার পৌঁছে দিলেও এখন ব্যবসায়ীদেরই গিয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
চরউজিলাব বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ডিলাররা প্রায় ১ হাজার ৯৫০ টাকা দামে গ্যাস দিতে চাচ্ছেন। এর সঙ্গে পরিবহন খরচও যোগ হচ্ছে। এরপর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করলে ক্রেতাদের কাছ থেকে আরও বেশি দাম নিতে হবে। এ কারণে তিনি গ্যাস আনছেন না।
এদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে ভোক্তাদেরও নাভিশ্বাস উঠেছে। আমলাব বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী বাবুল জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে একটি সিলিন্ডার কিনেছিলেন। সেটি শেষের দিকে থাকলেও নতুন করে বেশি দাম চাওয়ায় এখনো কিনতে পারেননি।
একই বাজারের বেসরকারি চাকরিজীবী তমিজ উদ্দিন বলেন, আগে যে গ্যাস ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে কিনতেন, এখন সেটির জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘চাকরি করে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সাইকেল রিকশা মেকানিক সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাস কিনতে গিয়ে দুই দোকানে দুই রকম দাম পেয়েছেন। এক দোকানে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং অন্যটিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। বাজারে গ্যাসের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তুফা বলেন, জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে গ্যাসসহ প্রায় সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ বাড়লেও খাবারের দাম ইচ্ছেমতো বাড়ানো সম্ভব নয়। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের সুযোগে বিভিন্ন পর্যায়ে সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে। তারা নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকির দাবি জানিয়েছেন।