
নরসিংদী সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে স্বামীর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পিতৃগৃহে অবস্থান করছেন। তার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, নরসিংদী।
জানা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের ওই কিশোরীর বিয়ের পর কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন কাটে। পরবর্তীতে তার স্বামী প্রবাসে চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কিশোরীটি শ্বশুরবাড়ি থেকে পিতৃগৃহে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় কিশোরীটির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, নরসিংদী কিশোরীটির পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে।
১৩ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বিয়ে, পরবর্তীতে গর্ভধারণ এবং নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় কিশোরীটির নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে কিশোরীটির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আইনগত কোনো মামলা বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।